ওয়েব ডেস্ক: একশো দিনের কাজের প্রকল্প ঘিরে ফের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানের সভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের এক বছর পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্র নতুন শর্ত চাপিয়ে একশো দিনের কাজের অর্থ রিলিজ করতে চাইছে না। এই শর্তগুলির তীব্র বিরোধিতা করে সভামঞ্চেই কেন্দ্রের চিঠি নকল করে আনা কাগজ ছিঁড়ে ফেলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সভায় শুরু থেকেই বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, “একশো দিনের কাজের টাকা চার বছর ধরে বন্ধ। আবাস যোজনা বন্ধ। গ্রামীণ রাস্তার কাজও বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আদালত নির্দেশের পরও কেন্দ্র কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, দু’দিন আগে কেন্দ্র থেকে একশো দিনের কাজ সংক্রান্ত একটি চিঠি এসেছে, যেখানে কয়েকটি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। কাগজ থেকে পড়ে তিনি বলেন, “ত্রৈমাসিক শ্রমবাজেট দেখাতে হবে—এটা ডিসেম্বর মাস, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঘোষণা হবে। বাজেট দেখাব কীভাবে?”
আরও একটি শর্তের কথা উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন, “একটা গ্রামসভায় মাত্র ১০ জন কাজ পাবে—এটা হয়? একটা পরিবারেই তো ১০ জন গরিব মানুষ থাকে!”
মমতার দাবি, কেন্দ্র প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতেও চাইছে, নইলে জমির কাজ করা যাবে না বলে জানিয়েছে। এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই কাগজের কোনও ভ্যালু নেই। এটা ভ্যালুলেস কাগজ।”
এরপরই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মমতা বলেন, “আমরা কারও ভিক্ষা চাই না। কর্মশ্রীতে ৭৫ দিনের কাজ হয়েছে। আবার আমরা ক্ষমতায় আসব। বাংলাই একশো দিনের কাজ করবে।”
সভা শেষের আগে মঞ্চে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রের ‘অর্ডার’ বলে দাবি করা নোটপত্র দেখিয়ে তিনি বলেন, “এটা আমার নোট, কেন্দ্রের অর্ডার নয়। ওর মাধ্যমে অপমান করা হচ্ছে।” এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি কাগজটি সভামঞ্চেই ছিঁড়ে ফেলেন।
কোচবিহারের সভা থেকে তাঁর চূড়ান্ত বার্তা—বাংলা নিজের শক্তিতে চলতে জানে, কেন্দ্রের ‘অযৌক্তিক’ শর্ত মানবে না।




