কলকাতা: নির্বাচন কমিশনের এসআইআর শুনানির শেষ পর্বে নিয়ম বদলাতে বাধ্য হল কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের চাপে পড়েই এই সিদ্ধান্ত বলে রাজনৈতিক মহলের মত। এবার থেকে কমিশন নির্ধারিত ১১টি নথির পাশাপাশি ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বা পারমানেন্ট রেসিডেন্স সার্টিফিকেটকেও বৈধ নথি হিসেবে গণ্য করা হবে।
শনিবার নির্বাচন কমিশনের তরফে রাজ্য নির্বাচনী দপ্তরকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। তবে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণের ক্ষেত্রে একাধিক শর্তও বেঁধে দিয়েছে কমিশন। স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক অথবা মহকুমা শাসকের সই করা শংসাপত্রই গ্রহণযোগ্য হবে। অন্য কোনও আধিকারিকের সই করা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট নথি হিসেবে গ্রাহ্য করা হবে না।
এই আবহে সাধারণ মানুষের মধ্যে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে কৌতূহল বেড়েছে। জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে পাওয়া যাবে এই গুরুত্বপূর্ণ নথি।
ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায়। তার জন্য আবেদনকারীকে ই-ডিস্ট্রিক্ট ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানেই প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন জমা দেওয়া যাবে এবং অনলাইনেই ফি পরিশোধ করা যাবে। আবেদন মূল্য রাজ্যভেদে আলাদা হয়ে থাকে। কোনও কোনও রাজ্যে আবার মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের আবেদন করার সুবিধা রয়েছে।
অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও এই সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। রাজস্ব দপ্তর, কালেক্টর বা ডেপুটি কালেক্টর অফিস, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেটের দপ্তর, নাগরিক পরিষেবা কেন্দ্র, রেজিস্ট্রার বা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও ডোমিসাইল সার্টিফিকেট মিলতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, এই সার্টিফিকেট পেতে হলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নির্দিষ্ট সময়ের বাসিন্দা হওয়া বাধ্যতামূলক। সাধারণত এই সময়সীমা সর্বনিম্ন ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাশাপাশি আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার আইডির মতো পরিচয়পত্র জমা দিতে হয়। স্থায়ী ঠিকানা প্রমাণের জন্য বিদ্যুৎ বিল, গ্যাসের বিল বা সংশ্লিষ্ট নথিও দিতে হয়।



