ওয়েব ডেস্ক: লোকসভায় বন্দে মাতরমের মাহাত্ম্য ও ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে সোমবার দীর্ঘ বক্তৃতা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। প্রায় এক ঘণ্টার সেই বক্তৃতার উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়েই ছিল বাংলা ও বাংলার ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের নাম। কিন্তু ঠিক সেই জায়গাতেই একাধিক বার ভুল উচ্চারণ ও ভুল নাম বলে হোঁচট খেলেন প্রধানমন্ত্রী।
বন্দে মাতরমের স্রষ্টা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে একাধিক বার ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তৃতার প্রায় ২৩ মিনিটের মাথায় তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় এই বিষয়ে আপত্তি জানান। সৌগত রায় বলেন, “অন্তত ‘বাবু’ বলুন।” সঙ্গে সঙ্গেই বক্তৃতা থামিয়ে প্রধানমন্ত্রী সৌগতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আচ্ছা, বাবু বলছি।” এরপর খানিক হাস্যরসের ভঙ্গিতে মোদী বলেন, “আপনাকেও তো দাদা বলতে পারি?” শাসকদলের বেঞ্চ থেকে তাতে হাসির রোল উঠলেও বিরোধী বেঞ্চ ছিল গম্ভীর।
শুধু বঙ্কিমচন্দ্রই নন, স্বাধীনতা সংগ্রামী পুলিনবিহারী দাসের নামও ভুল করে ‘পুলিনবিকাশ দাস’ বলেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকি মাস্টারদা সূর্য সেনের নামও তাঁর বক্তৃতায় ‘মাস্টার সূর্য সেন’ হয়ে যায়।
বন্দে মাতরমের গুরুত্ব তুলে ধরে ইতিহাস স্মরণ করানোর চেষ্টা করলেও প্রধানমন্ত্রীর একাধিক ভুল উচ্চারণ ও মিশ্রণে লোকসভায় তৈরি হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া—শাসকদলের হাসি, বিরোধীদের সমালোচনা।
এদিনের ভাষণে বন্দে মাতরম প্রসঙ্গে কংগ্রেসকে একহাত নেন প্রধানমন্ত্রী। অভিযোগ করেন, “এই গান শক্তির মন্ত্র দিয়েছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামে গোটা দেশের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিল বন্দে মাতরম। তবে দুর্ভাগ্য, ১৯৩৭ সালে বন্দে মাতরমের গুরুত্বপূর্ণ স্তবক, যা গানটির প্রাণ, সেগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বন্দে মাতরমের ওই বিভাজন দেশভাগের বীজ বপন করেছিল।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের প্রজন্মের জানা উচিত জাতি গঠনের এই ‘মহামন্ত্র’-এর সঙ্গে কেন এই অবিচার করা হয়েছিল। এই বিভাজনমূলক মানসিকতা এখনও দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ।” প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, “সরকার বন্দে মাতরমের মাহাত্ম্যকে পুনরুদ্ধার করতে চায়।” এরপর বন্দে মাতরমের ওই ‘বাদ পড়া’ অংশ লোকসভায় পাঠ করেন মোদি।
এদিকে লোকসভায় বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনা শুরু আগে বার্তা দেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “হোক আলোচনা, আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু এটা জেনে রাখা দরকার, বন্দে মাতরম পুরো গানটা নয়, শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্বাচন করে দেওয়া অংশই এখন আমাদের জাতীয় স্তোত্র। সেটা নিয়েই আমরা আলোচনা করব। বিজেপি অনেক কিছু জানে না। এটা আমি জানি, তাই বললাম।”




