ওয়েব ডেস্ক: বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশি তকমা দিয়ে চূড়ান্ত হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন তিনি। ‘পুশব্যাক’ করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল সোনালি বিবি (Sonali Bibi) ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কারাবাসও করতে হয় তাঁকে। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন ও হাজারও লড়াইয়ের পর অবশেষে বাংলায় ফেরেন সোনালি। সোমবার সেই সোনালি বিবিই বীরভূমের মাটিতে পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনালি ও তাঁর সদ্যোজাত সন্তান—দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন। নিরাপত্তার দিক থেকে হাসপাতালে বাড়তি বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
রবিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ সোনালির প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। বীরভূমের পাইকরের বাড়ি থেকে তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার বেলা ১১টা নাগাদ অস্ত্রোপচার করা হয়। সি-সেকশনের মাধ্যমে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মা ও নবজাতক—দু’জনেরই শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
এদিকে মঙ্গলবার বীরভূমে রণসংকল্প সভায় যোগ দেওয়ার কথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সভা শেষে তিনি রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে গিয়ে সোনালি বিবি ও তাঁর সদ্যোজাতর সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। জানা গিয়েছে, শীতবস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর। তার আগে সোমবার এক্স হ্যান্ডেলে সোনালিকে শুভেচ্ছা জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
I am deeply moved and genuinely heartened to learn that Sunali Khatun has given birth to a healthy baby boy at Rampurhat Medical College, Birbhum. This moment of joy feels even more profound against the backdrop of the injustice she was subjected to. In a shocking abuse of power,…
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) January 5, 2026
উল্লেখ্য, ঘটনার সূত্রপাত কয়েক বছর আগে। পেটের টানে বীরভূমের পাইকর থেকে দিল্লিতে কাজে গিয়েছিলেন দানিশ শেখ। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী সোনালি বিবি ও তাঁদের সন্তান। গত জুন মাসে বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’ বাংলাদেশি সন্দেহে অন্তঃসত্ত্বা সোনালি, তাঁর স্বামী ও সন্তান-সহ ছ’জনকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে সীমান্ত পেরিয়ে তাঁদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়। সেখানে জেলে বন্দি থাকতে হয় পরিবারটিকে।
এই ঘটনায় হাই কোর্ট ও পরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের শেষে অবশেষে মুক্তি পান তাঁরা। গত মাসে মালদহের মেহেদিপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলায় ফেরেন সোনালি। তবে এখনও বাংলাদেশে আটকে রয়েছেন তাঁর স্বামী-সহ পরিবারের চার জন।




