ওয়েব ডেস্ক: সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে যাচ্ছে পুজোর সংজ্ঞা। এবার সরস্বতী পুজোয় পুরোহিত সংকটের কার্যকর সমাধান হিসেবে সামনে এল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)। উত্তর ২৪ পরগনার সুভাষপল্লীর এক পরিবারে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনেই এআই প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটা করে সম্পন্ন হলো বাগদেবীর আরাধনা। মন্ত্রোচ্চারণ থেকে শুরু করে পুজোর খুঁটিনাটি সমস্ত রীতি-নীতিই নির্ভুলভাবে নির্দেশ দিল এই আধুনিক প্রযুক্তি।
একটি সংবাদমাধ্যমে সুভাষপল্লীর বাসিন্দা দীপিকা রায় ঘোষ জানান, প্রতি বছর সরস্বতী পুজোয় ব্রাহ্মণ পাওয়া ক্রমশই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনেক সময় পুরোহিতরা আসার প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারেন না। ফলে পুজোর সময়সূচি পিছিয়ে যায়।
এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে বাড়ির খুদেরদের ওপর। পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার আশায় ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সকাল থেকে উপবাসে বসে থাকে। পুরোহিতের দেরিতে পৌঁছনোর কারণে তাদের দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকতে হয়, যা অভিভাবকদের কাছেও উদ্বেগের। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজতেই এ বছর এআই প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবারটি।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজোর দিন মোবাইলে এআই-চালিত বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। যেখানে মন্ত্র, পুজোর নিয়মাবলি ও সময়সূচি ধাপে ধাপে জানিয়ে দেওয়া হয়। এআই-এর নির্দেশ মেনেই নির্দিষ্ট সময়ে ভক্তিভরে পুষ্পাঞ্জলি দেন খুদে থেকে বড়—সবাই।
পুজোয় প্রযুক্তির এই প্রবেশ নিয়ে সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও দীপিকা দেবীর পরিবারের মত, প্রযুক্তির সঠিক ও সংযত ব্যবহার বহু সমস্যার সমাধান করতে পারে। বিশেষ করে সময়ের অভাবে যখন পুজোর আচার পালনে বাধা আসে, তখন এআই কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
উত্তর ২৪ পরগনার এই ‘ডিজিটাল পুজো’ ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রথাগত পুরোহিতের বদলে এই ‘স্মার্ট’ সমাধান কি ভবিষ্যতে আরও জনপ্রিয় হবে? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।




