Saturday, January 24, 2026
spot_img
27.9 C
West Bengal

Latest Update

Driving Licence

Driving Licence | বছরে কটা ‘কেস’ খেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল? কড়া সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

Follow us on :

ওয়েব ডেস্ক: নতুন বছর থেকেই ট্রাফিক আইন আরও কঠোর করল কেন্দ্র। বছরে পাঁচ বা তার বেশি বার ট্রাফিক আইন ভাঙলে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল বা সাসপেন্ড হতে পারে। সদ্য সংশোধিত মোটর ভেহিকেল রুলস অনুযায়ী, বুধবার জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে—এই নিয়ম ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হয়েছে। তবে আগের বছরের কোনও ট্রাফিক অপরাধ এই হিসেবের আওতায় আসবে না। শুধুমাত্র এক বছরের মধ্যে নথিভুক্ত হওয়া লঙ্ঘনই গণনায় ধরা হবে।

নতুন নিয়মে কী বলা হয়েছে?

নতুন বিধান অনুযায়ী, এক বছরের মধ্যে মোটর ভেহিকেল আইনের অন্তত পাঁচটি ধারা লঙ্ঘনের জন্য দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চালক ড্রাইভিং লাইসেন্স রাখার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। সেই ক্ষেত্রে কত দিনের জন্য লাইসেন্স সাসপেন্ড থাকবে, তা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে লাইসেন্স বাতিল বা সাসপেন্ড করার আগে চালককে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক—এ কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল অভ্যাসগত ট্রাফিক আইনভঙ্গকারীদের রাশ টানা এবং সড়ক নিরাপত্তা আরও মজবুত করা।

কোন কোন অপরাধ ধরা হবে?

বর্তমানে মোট ২৪টি ট্রাফিক অপরাধকে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে যে কোনও পাঁচটি অপরাধ এক বছরের মধ্যে ঘটলে লাইসেন্স সাসপেন্ডের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তালিকায় রয়েছে—
অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, হেলমেট বা সিটবেল্ট না পরা, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, প্রকাশ্য রাস্তায় বেআইনি পার্কিং, অতিরিক্ত বোঝা বহন, গাড়ি চুরি, সহযাত্রীদের সঙ্গে হিংসাত্মক আচরণ ইত্যাদি। অর্থাৎ একাধিক ছোটখাটো অপরাধ মিলিয়েও সংখ্যাটি পাঁচে পৌঁছলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

কার হাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত?

লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হবে কি না এবং কত দিনের জন্য—সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আঞ্চলিক পরিবহণ দফতর (RTO) বা জেলা পরিবহণ দফতর (DTO)। আগে সাধারণত ধাপে ধাপে তিন মাস, ছয় মাস বা এক বছরের জন্য লাইসেন্স বাতিল করা হত এবং বহু ক্ষেত্রেই তা হত বারবার কাগুজে চালান কাটার পর। নতুন ব্যবস্থায় ই-চালানই যথেষ্ট লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য।

পুলিশকর্তাদের মতে, এই নিয়ম চালু হলে বারবার ট্রাফিক আইন ভাঙার সুযোগ প্রায় থাকছে না। তবে তাঁদের সতর্কবার্তা, পরিষ্কার স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) ও শক্তিশালী ডিজিটাল পরিকাঠামো না থাকলে সাধারণ চালকদের অকারণে প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে হতে পারে।

বকেয়া টোল থাকলেও বড়সড় কড়াকড়ি

ট্রাফিক আইনেই নয়, টোল সংক্রান্ত নিয়মেও কড়া ব্যবস্থা আনছে কেন্দ্র। সেন্ট্রাল মোটর ভেহিকেলস (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস, ২০২৬ অনুযায়ী, টোল বকেয়া থাকলে গাড়ির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ মিলবে না

টোল না মেটালে আন্তঃরাজ্য গাড়ি স্থানান্তরের জন্য ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) মিলবে না। পাশাপাশি গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট নবীকরণ হবে না এবং বাণিজ্যিক গাড়ির ক্ষেত্রে জাতীয় পারমিটও আটকে যেতে পারে।

নতুন নিয়মে ‘টোল বকেয়া’-র সংজ্ঞাও স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনও গাড়ি টোল প্লাজা পার হয়ে গেলেও যদি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে টাকা কাটা না পড়ে, সেই অর্থও বকেয়া হিসেবেই গণ্য হবে। কেন্দ্রের দাবি, এই ব্যবস্থায় জাতীয় সড়কে টোল ফাঁকি রোখা অনেকটাই সহজ হবে।

Entertainment