Sunday, February 8, 2026
spot_img
20.8 C
West Bengal

Latest Update

T20 World Cup 2026

T20 World Cup 2026 | বিশ্বকাপে অঘটন ঘটার মুখ থেকে কোনও রকম জিতল ইংল্যান্ড

Follow us on :

স্পোর্টস ডেস্ক: শেষ ওভারে দরকার ছিল ১০ রান। প্রায় সবাই ভেবেছিলেন, এ বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) প্রথম বড় অঘটন ঘটাতে চলেছে নেপাল। কিন্তু তীরে এসে তরী ডুবল। শেষ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করলেন স্যাম কারেন। মাত্র ৫ রান দিলেন তিনি। ফলে ৪ রানে হার মানতে হল নেপালকে। হারলেও খাতায়-কলমে অনেক বেশি শক্তিশালী, টি-টোয়েন্টিতে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের নাভিশ্বাস তুলে দিল তারা।

এ বারের বিশ্বকাপে প্রায় প্রতি ম্যাচেই বড় দলগুলিকে চাপে ফেলছে ছোট দলগুলি। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে ভারতের বিরুদ্ধে সুযোগ পেয়েও অঘটন ঘটাতে পারেনি আমেরিকা। সেই মাঠেই রবিবার দেখা গেল আরও একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রান তোলে ইংল্যান্ড। জবাবে নেপালের ইনিংস থামে ৬ উইকেটে ১৮০ রানে। ৪ রানে কোনও রকমে জিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন হ্যারি ব্রুকরা।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল হয়নি ইংল্যান্ডের। ১ রানে আউট হন ওপেনার ফিল সল্ট। তবে অপর ওপেনার জস বাটলার ও তিন নম্বরে নামা জেকব বেথেল বড় জুটি গড়েন। দ্রুত রান তোলেন দু’জনেই। ১৭ বলে ২৬ রান করে আউট হন বাটলার। টম ব্যান্টন খাতা খুলতেই পারেননি। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক প্রথম বলেই আউট হতে পারতেন, কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল। সুযোগ কাজে লাগান তিনি।

৩৫ বলে ৫৫ রান করে আউট হন বেথেল। ব্রুক করেন ৩২ বলে ৫২ রান। তাঁদের আউট হওয়ার পর মনে হচ্ছিল, ইংল্যান্ডের রান থামবে ১৬৫-১৭০-এর আশপাশে। তবে শেষ দিকে ঝোড়ো ব্যাটিং করেন উইল জ্যাকস। ১৮ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করেন তিনি। ইনিংসের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে স্কোর ১৮৪-এ নিয়ে যান জ্যাকস—সেই ছক্কাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়। নেপালের বোলারদের মধ্যে দীপেন্দ্র সিংহ ঐরি ও নন্দন যাদব নেন ২টি করে উইকেট। শের মল্ল ও সন্দীপ লামিছানে পান ১টি করে উইকেট।

১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করে নেপাল। বিশেষ করে ওপেনার কুশল ভুরতেল প্রথম ওভার থেকেই হাত খোলেন। ইংল্যান্ডের পেসারদের বিরুদ্ধে সাবলীল ছিলেন তিনি। ১৭ বলে ২৯ রান করে আউট হন কুশল। অধিনায়ক রোহিত পৌড়েল ও ঐরি মিলে ইনিংস সামলান। মাঝেমধ্যেই বড় শট খেলে ইংল্যান্ডের বোলারদের চাপে ফেলেন তাঁরা।

ম্যাচে ফেরান কারেনই। ২৯ বলে ৪৪ রান করা ঐরিকে আউট করেন তিনি। পরের ওভারেই ৩৪ বলে ৩৯ রান করে ফেরেন রোহিত। তখন মনে হচ্ছিল, নেপালের আশা বুঝি শেষ। কিন্তু লোকেশ বাম হাল ছাড়েননি। একার কাঁধে দলের রান টানতে থাকেন। একের পর এক বড় শট খেলেন তিনি। তবে অপর প্রান্তে সঙ্গীর অভাবে কয়েকটি বলে সুযোগ থাকলেও রান নিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৪ রানে হার মানতে হয় নেপালকে। ২০ বলে অপরাজিত ৩৯ রানে থাকেন লোকেশ।

ম্যাচ দেখতে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে হাজির ছিলেন প্রচুর নেপালের সমর্থক। সারা ম্যাচ জুড়ে গলা ফাটিয়ে দলকে সমর্থন করেন তাঁরা। জয়ের একেবারে কাছে পৌঁছে যাওয়ার পর তাঁদের উল্লাস চোখে পড়ার মতো ছিল। কিন্তু শেষ হাসি হাসতে পারেননি তাঁরা। তবু ম্যাচ হারলেও নেপালের লড়াইয়ে খুশি সমর্থকেরা। খেলা শেষে ক্রিকেটারদের উদ্দেশে যে ভাবে হাততালি দিয়ে তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর চেষ্টা করলেন, তাতেই স্পষ্ট—হারেও জিতেছে নেপালের মনোবল।

Entertainment