ওয়েব ডেস্ক: অরিজিৎ সিং (Arijit Singh)—যাঁর কণ্ঠের মাধুর্যে দীর্ঘদিন ধরেই মুগ্ধ কোটি কোটি শ্রোতা। একের পর এক জনপ্রিয় প্লেব্যাক গানের মাধ্যমে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন সংগীতজগতের শীর্ষস্থানে। তবে এই সাফল্য রাতারাতি আসেনি। কেরিয়ারের শুরুর দিকে দীর্ঘদিন সংগ্রাম করতে হয়েছে তাঁকে। বহু গান রেকর্ড হলেও একাধিক ক্ষেত্রে তা মুক্তির মুখ দেখেনি। তবুও সংগীতচর্চা ও সাধনায় কখনও পিছপা হননি তিনি।
এই জনপ্রিয় গায়কই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া একটি পোস্টে জানান, তিনি আর প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে কাজ করবেন না। তাঁর এই ঘোষণায় অনুরাগীদের মধ্যে গভীর হতাশা ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ দেখা গিয়েছে।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ের গতিতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন অরিজিৎ সিং। বর্তমানে তাঁর গাওয়া প্রতিটি গানই যেন সিনে দুনিয়ায় আলাদা করে চিহ্নিত হয়ে থাকে। বহু ক্ষেত্রে কোনও ছবির মূল আকর্ষণ বা ‘ইউএসপি’ হয়ে উঠেছে তাঁর কণ্ঠ। এমনও একাধিক নজির রয়েছে, যেখানে তাঁর গাওয়া গান ছবির বাণিজ্যিক সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করা হয়।
তবে বিপুল সাফল্য সত্ত্বেও পারিশ্রমিক সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও রকম দাবি-দাওয়া নেই অরিজিতের। এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, সিনেমার প্লেব্যাকের জন্য নির্দিষ্ট কোনও পারিশ্রমিক তিনি ধার্য করেন না। নির্মাতারা যা উপযুক্ত মনে করেন, সেটাই তিনি গ্রহণ করেন। লাইভ কনসার্টের পারিশ্রমিক সম্পর্কেও তাঁর স্পষ্ট ধারণা নেই বলে জানিয়েছেন অরিজিৎ। এই সংক্রান্ত বিষয়গুলি তাঁর ম্যানেজারই দেখভাল করেন। অর্থের বিষয়টি নিয়ে তিনি খুব একটা ভাবিত নন বলেই জানিয়েছেন।
যদিও বলিউড সূত্রে শোনা যায়, প্রতি ছবির গানের জন্য অরিজিতের পারিশ্রমিক আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি।
সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেও তাঁর জীবনযাপন রয়ে গিয়েছে অত্যন্ত সাধারণ। মাঝেমধ্যেই তাঁকে দেখা যায় সাধারণ মানুষের মতোই সকলের সঙ্গে মিশে থাকতে। সেলেব মহলের আভিজাত্য বা অহংকার তাঁর আচরণে তেমনভাবে ধরা পড়ে না। জানা যায়, বাংলায় এলে বহু সময়ই তিনি ফোন বন্ধ করে রাখেন। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই ভাইরাল হয় অরিজিতের নানান ‘অচেনা’ অথচ পরিচিত মুহূর্তের ছবি—কখনও বাজার করতে দেখা যায় তাঁকে, কখনও মাঠে খেলতে, আবার কখনও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঠাকুর দেখাতে।
অনুরাগীদের মতে, এটাই অরিজিৎ সিং—সাফল্যের মধ্যেও যিনি নিজেকে বরাবরই সাধারণ রাখতে ভালোবাসেন।




