ওয়েব ডেস্ক: বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিত পওয়ারের (Ajit Pawar)। একই দুর্ঘটনায় আরও চার জনের মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদসংস্থা পিটিআই। অজিত পওয়ারের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী কিরণ গুজরও মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
অন্য দিকে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ভারতের উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-কে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানে থাকা পাঁচ জন যাত্রীরই মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন অজিত পওয়ার ছাড়াও তাঁর দুই নিরাপত্তাকর্মী এবং বিমানের দুই সদস্য—এক জন পাইলট ও এক জন ফার্স্ট অফিসার।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল পৌনে ন’টা নাগাদ মহারাষ্ট্রের বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের সময় একটি ব্যক্তিগত বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেঙে পড়ে। সেই বিমানে ছিলেন শরদ পওয়ারের ভ্রাতুষ্পুত্র তথা এনসিপি প্রধান অজিত পওয়ার। ভেঙে পড়ার পরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়।
দুর্ঘটনার পর প্রকাশ্যে আসা ছবিতে দেখা গিয়েছে, বিমানটি সম্পূর্ণভাবে আগুনে জ্বলছে। আগুন নেভানোর কাজে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী। পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরাও সেখানে উপস্থিত হন।
এনসিপি সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা পরিষদের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারের উদ্দেশ্যে মুম্বই থেকে বারামতী যাচ্ছিলেন অজিত পওয়ার। তিনি একটি ব্যক্তিগত বিমানে সফর করছিলেন।
বারামতী বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শিবাজি তওয়ারে জানিয়েছেন, অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ের একেবারে প্রান্তে চলে যায়। এরপরই সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেঙে পড়ে এবং টুকরো টুকরো হয়ে যায়। ধ্বংসাবশেষে আগুন ধরে যায়।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ডিজিসিএ জানিয়েছে, প্রাকৃতিক, যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা অন্য কোনও কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলটি পাহাড় ও জঙ্গলে ঘেরা এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজে কিছুটা অসুবিধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অজিত পওয়ারের মৃত্যুর খবরে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শোকপ্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।




