ডায়মন্ড হারবার: নিজের বিয়ের দিনই নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত শুনানিতে হাজির হতে হল এক যুবককে। অগত্যা বিয়ের আসর যাওয়ার আগেই বর-এর সাজেই শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছলেন আনোয়ার হোসেন। শুধু তিনিই নন, তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বরযাত্রীরাও। জানা গিয়েছে, মোট ৩৮ জন বরযাত্রীকেও একই সঙ্গে শুনানির জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছিল।
মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার অন্তর্গত ২৬২ নম্বর বুথে এই ব্যতিক্রমী দৃশ্যের সাক্ষী থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, এদিন আনোয়ার হোসেনের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল হাওড়ায়। তবে নির্বাচন কমিশনের তরফে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির নোটিস পাওয়ায় বিয়ের মণ্ডপে যাওয়ার আগে বাধ্য হয়েই তাঁকে হাজির হতে হয় ষাটমনিশা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখানে অস্থায়ীভাবে শুনানি কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট বুথে মোট আনুমানিক ১,১০০ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনের কাছেই এসআইআর সংক্রান্ত নোটিস পৌঁছেছে। ফলে সকাল থেকেই ষাটমনিশা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে মহিলা ভোটাররাও প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে নিয়ে ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম নিশ্চিত করার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন।
এই দীর্ঘ লাইনে ভোর থেকেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় আনোয়ার হোসেন ও তাঁর বরযাত্রীদের। ফলে বিয়ের আনন্দের বদলে দিনের একটি বড় অংশ কেটে যায় শুনানি কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে নথিপত্র জমা দেওয়ার মধ্যেই। বর পরেছিলেন গায়ে পাঞ্জাবি ও মাথায় টোপর। বরবেশে তাঁকে দেখে শুনানি কেন্দ্রে উপস্থিত মানুষের মধ্যে কৌতূহলের পাশাপাশি ক্ষোভও ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের দিনেও এ ধরনের শুনানির নোটিস পাঠানো কতটা যুক্তিসঙ্গত। যদিও এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।




