Thursday, January 22, 2026
spot_img
26.6 C
West Bengal

Latest Update

Chewing Gum

Chewing Gum | ১০ হাজার বছর পরে ‘চুইং গাম’ চিবিয়ে ছিল কে? কী জানালেন বিজ্ঞানীরা?

Follow us on :

ওয়েব ডেস্ক: প্রস্তর যুগে এক কিশোরীর চিবোনো ‘চুইং গাম’ (Chewing Gum)-এর টুকরো। সময়ের স্রোতে ১০ হাজার ৫০০ বছর হারিয়ে যাওয়া সেই বস্তুটিই সম্প্রতি উদ্ধার করেছেন ইস্টোনিয়ার প্রত্নতত্ত্ববিদেরা। আর সেই গামেই লুকিয়ে ছিল প্রাচীন এক কিশোরীর চেহারা! টারটু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা গাম থেকে সংগৃহীত লালারসের ডিএনএ পরীক্ষা করে জেনেছেন—এটি চিবিয়েছিল এক কিশোরী, যার চুল ছিল বাদামি, চোখের মণির রংও ছিল বাদামি।

টারটু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের গবেষকদের ব্যাখ্যা, প্রাচীন যুগের এই ‘গাম’ আসলে বার্চ গাছের ছালের গঁদ। দাঁতের দাগসহ সংরক্ষিত ছিল চিবানোর প্রমাণ। ওই গঁদ থেকেই পাওয়া লালারসের ডিএনএ ইস্টোনিয়ার বর্তমান জনসংখ্যার (প্রায় ২০ শতাংশ মানুষের) ডিএনএ-র সঙ্গে মিলিয়ে একটি জিনগত তুলনামূলক ছবি তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা।

ইতিহাসবিদ বেটানি হিউ বলেন, ‘‘প্রাচীন কালের ফেলে দেওয়া কোনও জিনিস যে এইভাবে হাজার বছর পর আমাদের সামনে সেই মানুষগুলির পরিচয় তুলে ধরতে পারে, তা ভাবাই যায় না।’’ তাঁর কথায়, প্রাচীন মানুষেরা দাঁতের ব্যথা কমাতে বার্চের গঁদ চিবোতেন, আবার অনেক সময় ব্যবহার করতেন ‘চুইং গাম’ হিসেবেও। বর্তমানে সেই গঁদ আঠা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। নতুন গবেষণায় পাওয়া কিশোরীর বাদামি চুল–বাদামি চোখের তথ্য উত্তর ইউরোপবাসীর সোনালি চুল–নীল চোখের প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এই নিয়ে নতুন গবেষণাও শুরু হয়েছে।

ইস্টোনিয়ার অন্যান্য স্থান থেকেও মিলেছে বহু প্রাচীন সামগ্রী। টারটু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানিয়েছেন, ৮০০ বছরের পুরনো একটি ধাতব ক্রুশ পাওয়া গেছে—যার গায়ে রয়েছে বংশবৃদ্ধির চিত্রকল্প। এই ক্রুশ উদ্ধার হয়েছে দ্বাদশ শতকের এক মহিলার সমাধি থেকে। প্রায় ৫০ বছর বয়সি ওই নারীর সমাধি থেকে মিলেছে ব্রোঞ্জ ও রুপোর গয়না, পাখির ডিম, খাবারসহ নানা দ্রব্য। এগুলি থেকে উত্তর ইউরোপে তখনকার যুগে কীভাবে সমাধিস্থ করা হত, তার স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে।

গবেষকেরা বলছেন, ঠিক সেইভাবেই ১০ হাজার বছর আগের গঁদের টুকরোও অতীতের এক অমূল্য জানালা খুলে দিয়েছে। প্রস্তর যুগ ও বর্তমানের মধ্যে এটি যেন এক মানবিক সেতুবন্ধন—যেখানে হাজার বছর আগের এক কিশোরী আজও নিজের গল্প বলে যাচ্ছে।

Entertainment