কলকাতা: গত ডিসেম্বরে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির (Messi in Kolkata) সফর ঘিরে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। তবে ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর অবশেষে দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
গত ১৩ ডিসেম্বর মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় হাজার হাজার দর্শক টিকিট কেটে যুবভারতী স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী মেসিদের মাঠে না দেখায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন দর্শকরা। অভিযোগ ওঠে, সাধারণ দর্শকদের থেকে দূরে রেখে নেতা-মন্ত্রী ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদের ঘিরেই সময় কাটান মেসি। সেই ক্ষোভ থেকেই স্টেডিয়ামের ভিতরে ভাঙচুর চালানো হয়।
ঘটনার পর রাজ্য সরকার বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শকের কাছে মোট ১৯ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছিল। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আয়োজক সংস্থা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। মেসি সফরের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তের সংস্থার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীরা সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও সম্পত্তি মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছেন। এই তথ্য নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালত—দুই জায়গাতেই পেশ করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্তেই জানা গিয়েছে, মেসিকে আনার নামে প্রায় ২৩ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। যদিও তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি, বিশৃঙ্খলার জেরে সরকারি সম্পত্তির প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
ঘটনার দিন পরিস্থিতি ছিল কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বহু দর্শক হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও মেসিকে ঠিকভাবে দেখতে না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চলে। পরিস্থিতি সামলাতে প্রশাসনকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। নির্ধারিত দেড় ঘণ্টার কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে মাঠ ছাড়েন মেসি। এরপরই বিশৃঙ্খলা চরম আকার নেয়।
এই ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে এবং সেদিনই বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় আয়োজক শতদ্রু দত্তকে। তিনি বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন।
এর আগে রাজ্যের ডিজিপি রাজীব কুমার সাংবাদিক বৈঠকে দর্শকদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছিলেন, “যতগুলি টিকিট বিক্রি হয়েছে, তার সম্পূর্ণ টাকা দর্শকদের ফেরত দিতেই হবে। আয়োজকরা টাকা ফেরত না দিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শেষ পর্যন্ত পুলিশের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হল। প্রশাসনের দাবি, দর্শকরা তাঁদের প্রাপ্য টাকা অবশ্যই পাবেন। পাশাপাশি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে তদন্তও জারি থাকবে।




