Tuesday, January 13, 2026
spot_img
23 C
West Bengal

Latest Update

Denmark on US

Denmark on US | গ্রিনল্যান্ড-বিতর্ক, ট্রাম্পকে এবার পাল্টা হুঁশিয়ারি ডেনমার্কের

Follow us on :

ওয়েব ডেস্ক: ‘আমাদের অবশ্যই গ্রিনল্যান্ড দরকার’— দিনকয়েক আগেই এই ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ড দখলের লক্ষ্যে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। এই আবহে এবার কড়া পাল্টা হুঁশিয়ারি দিল ডেনমার্ক (Denmark on US)। ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কেউ ডেনমার্কের উপর আক্রমণ চালাতে এলে সেনাবাহিনী সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধে নামবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের অপেক্ষা না করেই গুলি চালানো হবে।

ডেনমার্কের স্থানীয় সংবাদপত্র বার্লিংস্কে-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৯৫২ সালে জারি হওয়া একটি নির্দেশিকায় এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় তৈরি ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, কোনও বিদেশি বাহিনী যদি ড্যানিশ ভূখণ্ডের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে, তবে সেনাকে আগে গুলি চালাতে হবে, পরে নির্দেশের অপেক্ষা। উল্লেখ্য, ১৯৪০ সালের এপ্রিলে নাৎসি জার্মানির ডেনমার্ক আক্রমণের অভিজ্ঞতার পরই এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সে সময় ইউরোপীয় দেশটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা আংশিকভাবে ভেঙে পড়েছিল, যার প্রভাব আজও কিছু ক্ষেত্রে বজায় রয়েছে।

আমেরিকার মসনদে দ্বিতীয়বার প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই গ্রিনল্যান্ড ‘দখল’ করার বিষয়ে একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। ভেনিজুয়েলা নিয়ে সামরিক অভিযানের পর, এবার কি সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন তিনি— এই প্রশ্নই উঠছে আন্তর্জাতিক মহলে। হোয়াইট হাউস সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়টি নিয়ে সব দিক খতিয়ে দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর টিম একাধিক বিকল্প নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে। সেনা নামানোর রাস্তা যেমন খোলা রাখা হয়েছে, তেমনই গ্রিনল্যান্ডকে Compact of Free Association চুক্তির আওতায় আনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের উদ্যোগের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন ইউরোপের একাধিক শক্তিশালী রাষ্ট্রনেতা। ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের (ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল) পাশে দাঁড়িয়ে যৌথ বিবৃতি জারি করেছেন ইউরোপের প্রধান দেশগুলির নেতারা। ওই বিবৃতিতে সাফ জানানো হয়েছে, সুমেরু দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড সেখানকার মানুষেরই। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, জার্মানির চ্যান্সেলর, ইতালির প্রধানমন্ত্রী, পোল্যান্ড, স্পেন ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী একযোগে জানিয়ে দিয়েছেন, “গ্রিনল্যান্ড সেখানকার মানুষের। গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র তাদেরই।”

এছাড়াও ওই ইউরোপীয় রাষ্ট্রনেতারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-সহ ন্যাটোর মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সুমেরু অঞ্চলের নিরাপত্তা (Arctic Security) নিশ্চিত করা জরুরি। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে এই টানাপড়েন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

Entertainment