স্পোর্টস ডেস্ক: ভারত ও বাংলাদেশের (India vs Bangladesh) মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। সেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ক্রিকেট অঙ্গনেও। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড—বিসিসিআই (BCCI) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)—কার্যত প্রতিপক্ষের অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন ক্রীড়ামহলের একাংশ। এরই মধ্যে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত নয়, বাংলাদেশ ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে কি না।
খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাকি আইসিসির কাছে একাধিকবার আবেদন জানাচ্ছে, যাতে ভারতের মাটিতে হওয়ার কথা থাকা বাংলাদেশের ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরিত করা হয়। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিশ্ব ক্রিকেটে বিসিসিআই-এর প্রভাব ও ক্ষমতার কথা মাথায় রাখলে, BCB-এর পক্ষে ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে বিবাদে টিকে থাকা যে সহজ নয়, তা বলাই বাহুল্য। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের আর্থিক শক্তির পার্থক্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড হল বিসিসিআই। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৮,৭০০ কোটি টাকা। আরও জানা যাচ্ছে, ২০২৫–২৬ আর্থিক বছরে বিসিসিআই-এর সম্ভাব্য আয় হতে পারে প্রায় ৮,৯৬৩ কোটি টাকা।
বিসিসিআই আইসিসি থেকে বড় অঙ্কের রেভিনিউ শেয়ার পায়। পাশাপাশি ব্রডকাস্টিং রাইটস থেকেও বিপুল আয় করে ভারতীয় বোর্ড। ২০২৩ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত মিডিয়া রাইটস ভায়াকম ১৮ মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডকে দেওয়া হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫,৯৬৩ কোটি টাকা। এছাড়াও স্পনসরশিপ এবং আইপিএল থেকে বিসিসিআই-এর আয়ের পরিমাণ অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে, বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মোট নেট ওয়ার্থ প্রায় ৪৫৮ কোটি টাকা। তুলনামূলক বিচারে বিসিসিআই প্রায় ৪১ গুণ বেশি সম্পদশালী। যেখানে বিসিসিআই আইসিসির মোট আয়ের ৩৮ শতাংশেরও বেশি অংশ পায়, সেখানে বাংলাদেশ বোর্ডের ভাগ মাত্র প্রায় ৪.৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (BPL) BCB-এর আয়ের অন্যতম বড় উৎস। অন্যান্য দেশের বোর্ডগুলোর মতোই, ব্রডকাস্টিং রাইটস ও স্পনসরশিপ ডিল থেকে বাংলাদেশ বোর্ড ভালো অঙ্কের অর্থ পায়। এছাড়া মার্চেন্ডাইজ বিক্রি থেকেও সামান্য আয় হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, গত আর্থিক বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মোট আয় ছিল প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে—যা বিসিসিআই-এর আয়ের তুলনায় অনেকটাই কম।
সব মিলিয়ে, মাঠের বাইরের এই আর্থিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।




