ওয়েব ডেস্ক: অ্যান্টিবায়োটিকের (Antibiotics) যথেচ্ছ ব্যবহার ও অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) নিয়ন্ত্রণে রাজ্যস্তরে বড়সড় পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই ‘স্টেট অ্যান্টিবায়োটিক অ্যাকশন প্ল্যান’ চালুর পথে হাঁটছে প্রশাসন। আগামী ৯ জানুয়ারি দপ্তরের উদ্যোগে ডাকা এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই রাজ্যস্তরের অ্যাকশন প্ল্যানের খসড়া চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
ওই বৈঠকে স্বাস্থ্যদপ্তরের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও পরিবেশ দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন। একাধিক দপ্তরকে এক ছাতার তলায় এনে ‘ওয়ান হেলথ’ বা সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, যেখানে মশার উপদ্রব বেশি, সেখানে রাসায়নিকের উপর নির্ভর না করে গাপ্পি মাছ চাষে জোর দেওয়া হবে। প্রয়োজনে পশুপালন ও বন দপ্তরকেও এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা হতে পারে।
সূত্রের খবর, গত এক বছর ধরেই রাজ্য সরকার অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স নিয়ন্ত্রণে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। কোন কোন অ্যান্টিবায়োটিকের নির্বিচার ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে, তা ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। নতুন নীতিতে হাসপাতালে ইন্ডোর, আউটডোর কিংবা আইসিইউ—কোন পরিস্থিতিতে কোন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট গাইডলাইন থাকছে। পাশাপাশি কোন ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ জরুরি, তাও উল্লেখ করা হবে।
এদিকে, অ্যান্টিবায়োটিক ও ওষুধের গুণমান নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারও। দিন কয়েক আগেই ফের বাজারচলতি বহু ওষুধ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। এবার নিষিদ্ধের তালিকায় রয়েছে মোট ১৫৬টি ওষুধ। গুণমান পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় এই ১৫৬টি ‘ডোজ কম্বিনেশন’ বা তথাকথিত ‘ককটেল ওষুধ’ নিষিদ্ধ করেছে মোদি সরকার। বৃহস্পতিবার থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই ওষুধগুলি মানবদেহের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। সাধারণভাবে ককটেল ওষুধ বলতে একটি মাত্র ওষুধে একাধিক ওষুধের সংমিশ্রণকে বোঝায়। বিশেষজ্ঞ কমিটির পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ধরনের বহু ওষুধ রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত। অভিযোগ উঠেছে, পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য ও প্রমাণ ছাড়াই বহু ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা এই ধরনের ওষুধ তৈরি ও বাজারজাত করছে।




