মুর্শিদাবাদ: পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পরে আপাতত স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে মুর্শিদাবাদের রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। কলকাতাগামী একটি এবং লালগোলাগামী দু’টি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশন থেকে ছেড়েছে। জাতীয় সড়কেও ধীরে ধীরে যান চলাচল শুরু হয়েছে। প্রায় ৬ ঘণ্টা আটকে থাকার পরে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
ভিন্রাজ্যে কাজে গিয়ে মুর্শিদাবাদের আরও এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বেলডাঙা (Beldanga Incident)। রেললাইন এবং ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। টানা তিন থেকে চার ঘণ্টা অবরোধের জেরে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী।
এই পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে যান বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ ও কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তিনি মৃত শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে তাতেও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। বেলডাঙার রাস্তায় ট্রাফিক কিয়স্ক ভাঙচুর করা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুলিশের গাড়িও। ইটের আঘাতে অন্তত ১২ জন আহত হন, যাঁদের মধ্যে কয়েক জন সাংবাদিক। একজন সাংবাদিককে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলকে শান্ত থাকার আবেদন জানান। তিনি বলেন, মানুষের ক্ষোভের সঙ্গত কারণ রয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলার অভিযোগ উঠছে। রাজ্য সরকার মৃতের পরিবারের পাশে রয়েছে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের অশান্তির নেপথ্যে বিজেপির প্ররোচনা রয়েছে। তবে কাউকে উসকানিতে পা না দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বেলডাঙায় কাদের প্ররোচনা আছে আপনারা জানেন। আমি বলব, শান্তি বজায় রাখুন, সাংবাদিকদের উপর হামলা করবেন না।”
দুপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলতে ঘটনাস্থলে যান মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপার সানি রাজ এবং জেলাশাসক নিতিন সিংহানিয়া। দীর্ঘ আলোচনার পরে বিক্ষোভ প্রত্যাহারে রাজি হন আন্দোলনকারীরা। পুলিশ জানায়, পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পরিবার সুবিচার পাবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালেই বেলডাঙার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখের দেহ ঝাড়খণ্ড থেকে উদ্ধারের খবর আসে। সেখানে কাজ করতে গিয়েছিলেন ওই শ্রমিক। পরিবারের দাবি, তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ক্ষোভ ছড়ায়। শিয়ালদহ–লালগোলা শাখার মহেশপুরে রেললাইনে বাঁশ ফেলে অবরোধ করেন শত শত মানুষ। আপ ও ডাউন লাইনে হাজারিকা এক্সপ্রেস-সহ একাধিক লোকাল ট্রেন আটকে পড়ে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়, আটকে পড়ে বহু বাস ও লরি।
শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ উঠে গেলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে পরিস্থিতি।




