ওয়েব ডেস্ক: দূরপাল্লার যাত্রায় আজও ভারতের সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসা ট্রেন (Indian Railways)। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তির উন্নতিতে যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক উচ্চগতির ট্রেনও। কিন্তু নজরে পড়ে একটি বিষয়—দূরপাল্লার ট্রেনগুলির রং একরকম নয়। কোথাও নীল, কোথাও মেরুন, আবার কোথাও সবুজ বা লাল। এই রং নির্বাচন কি শুধুই নকশার খেয়াল? একেবারেই নয়। প্রতিটি রঙের নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে নির্দিষ্ট কারণ এবং ভারতীয় রেলের দীর্ঘ ইতিহাস ও বিবর্তনের গল্প।
পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ রেল নেটওয়ার্ক রয়েছে ভারতে। তাই দূরপাল্লার ট্রেনে যাত্রার আগে এই ভিন্ন ভিন্ন রঙের অর্থ জেনে নেওয়া জরুরি। সবচেয়ে বেশি যে রং চোখে পড়ে, তা হল নীল। বিশেষ করে স্লিপার ক্লাস ও জেনারেল কোচে এই রঙের আধিক্য। একসময় দূরপাল্লার ট্রেন ছিল মেরুন রঙের। পরে রেলের আধুনিকীকরণের প্রতীক হিসেবে ধীরে ধীরে নীল রঙের ব্যবহার শুরু হয়।
নন-এসি ট্রেনগুলিতে নীল রঙের ব্যবহার মূলত সাশ্রয়ী যাত্রা ও সহজলভ্যতার বার্তা দেয়। ভিড় প্ল্যাটফর্মে যাত্রী ও রেলকর্মীদের মধ্যে পার্থক্য বোঝাতেও এই রং সহায়ক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নীল রংই যেন ভারতীয় রেলের পরিচয়ে পরিণত হয়েছে।
তবে ভারতীয় রেলের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে মেরুন রং। নীল রঙের আগে দীর্ঘদিন ধরে মেরুন রঙের দূরপাল্লার ট্রেনই চলত দেশে। আজও পুরনো ও হেরিটেজ রুটে মেরুন রঙের ট্রেন দেখা যায়। এই রং ঐতিহ্য ও নস্টালজিয়ার প্রতীক, ভারতে রেলযাত্রার সূচনালগ্নের স্মৃতি বহন করে।
সবুজ রঙের ট্রেন মানেই অনেকের কাছে ‘গরিব রথ’। এই রঙের ট্রেনগুলিতে তুলনামূলক কম খরচে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় যাত্রার সুযোগ মেলে। অর্থনৈতিক যাত্রা ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে পরিষেবার বার্তা দিতেই এই রং বেছে নেওয়া হয়েছে। অন্য রঙের তুলনায় সবুজ ট্রেন দূর থেকেও সহজে চোখে পড়ে। পাশাপাশি এই রং সতেজতার অনুভূতিও দেয়।
অন্যদিকে, কিছু দূরপাল্লার ট্রেনের রং লাল বা ইঁটরঙা। সাধারণত এসি চেয়ার কার, এসি স্লিপার কিংবা সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেনগুলিতে এই রং ব্যবহৃত হয়। লাল রংয়ের মাধ্যমে আরাম ও বিলাসিতার ভাব ফুটিয়ে তোলা হয়। এই ট্রেনগুলির অন্দরসজ্জা তুলনামূলক উন্নত এবং যাত্রীদের জন্য বাড়তি সুযোগ-সুবিধাও থাকে।
এছাড়াও কিছু ট্রেনের গায়ে দেখা যায় হলুদ ডোরাকাটা দাগ বা হলুদের প্রলেপ। এগুলি নিছক সাজসজ্জা নয়। সাধারণত এই ধরনের চিহ্ন থাকে ব্রেক ভ্যান, পার্সেল ভ্যান বা বিশেষ ধরনের কোচে। কম আলোতেও যাতে সহজে নজরে আসে, সেই কারণেই এই ব্যবস্থা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ভারতীয় রেলের প্রতিটি ট্রেনের রং শুধু চোখের আরাম নয়, বরং তার পরিচয়, উদ্দেশ্য ও ইতিহাসের নীরব ভাষ্য।




