কলকাতা: জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই শীতের দাপট (Winter Update) বাড়ল কলকাতায়। বুধবার ভোরে শহরের তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে ১০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩.৬ ডিগ্রি কম। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী দু’দিন দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নীচেই থাকবে। জাঁকিয়ে শীতের পাশাপাশি ভোরের দিকে বেশির ভাগ জেলায় ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অঞ্চলটি বুধবার সকালেই ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সেটি তামিলনাড়ুর চেন্নাই থেকে প্রায় ১২৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এই নিম্নচাপ আরও শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে এবং ধীরে ধীরে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হবে। পাশাপাশি ত্রিপুরা ও সংলগ্ন বাংলাদেশের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। তবে হাওয়া অফিসের স্পষ্ট বক্তব্য, এই নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত— কোনওটিরই সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের উপর পড়বে না। ফলে রাজ্য জুড়ে উত্তুরে হাওয়ার প্রভাব বজায় থাকবে।
আগামী দু’দিন রাজ্যের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকবে। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকতে পারে। উত্তরবঙ্গেও দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূমে বৃহস্পতিবার শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় ‘শীতল দিন’ থাকার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। শীতল দিনের সংজ্ঞা অনুযায়ী, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি বা তার কম এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪.৫ ডিগ্রি বা তার বেশি কম হলে সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এ ছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর ও নদিয়ায় ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কুয়াশার জেরে কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতা ১৯৯ থেকে ৫০ মিটারের মধ্যে নেমে যেতে পারে।
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরে আগামী দু’দিন ঘন কুয়াশার পূর্বাভাস রয়েছে। এই জেলাগুলির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের কিছু এলাকায় ‘শীতল দিন’ থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।




