স্পোর্টস ডেস্ক: এজবাস্টনে প্রথম জয় পেয়েছে ভারত। আর এই টেস্টে দু’ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক আকাশ দীপ (Akash Deep)। এজবাস্টনে প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছেন আকাশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলার পেসারের দাপটে ভেঙে পড়েছিল ইংল্যান্ডের ব্যাটিং অর্ডার। জো রুট, হ্যারি ব্রুকের মতো ব্যাটারদের বোকা বানিয়ে আউট করেছেন বাংলার পেসার।
নজিরের ম্যাচে স্মারক হিসাবে তুলে নিয়েছেন উইকেট। কিন্তু সেই সাফল্য, সেই হাসির মধ্যে লুকিয়ে ছিল এক যন্ত্রণা। খেলা শেষে মাঠে চেতেশ্বর পুজারার সঙ্গে কথা বলেন আকাশ। সেখানেই উঠে আসে তাঁর পরিবারের কথা। পুজারা আকাশকে জিজ্ঞাসা করেন, “খেলা শেষে স্মারক হিসাবে স্টাম্প আর বল নিয়েছ। এটা নিশ্চয়ই বাড়ি ফিরে সকলকে দেখাবে।”
জবাবে আকাশ বলেন, “একটা কথা আমি কাউকে বলিনি। আমার বড় দিদি আজ দু’মাস ধরে ক্যানসারে ভুগছে। খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি ওর মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলাম। প্রত্যেকটা বলের সময় আমার চোখের সামনে ওর মুখটা ভেসে উঠছিল। আমি ওর জন্য উইকেট পেতে চেয়েছিলাম। ওর কথা ভাবছিলাম। ওর মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি। এই জয়টা ওর জন্য।”
আকাশ যখন এই কথা বলছেন, তখন তাঁর চোখে জল। সেই সঙ্গে মুখে হাসি। তাঁকে দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন পুজারাও। তিনি প্রার্থনা করেন, যাতে আকাশের দিদি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।
আর তাঁর সাফল্য নিয়ে আকাশ বলেন, “আমি সিমে বল ফেলার চেষ্টা করেছি। উইকেট লক্ষ্য করে বল করেছি। রুটকে তার আগে ক্রমাগত পায়ে বল করছিলাম। যাতে ও ভাবে বল ভিতরের দিকে ঢুকবে। তার পর একটা বল বাইরের দিকে বার করেছি। তাতে ও আউট হয়েছে। ব্রুকের ক্ষেত্রেও অফ স্টাম্পের বাইরে টানা বল করে একটা ভিতরের দিকে ঢুকিয়েছি। আমি জানতাম পিচের ফাটল আমাকে সাহায্য করবে। সেটাই হয়েছে।”
তবে এজবাস্টনে জসপ্রীত বুমরার বদলে সুযোগ পেয়েছিলেন আকাশদীপ। তাঁর এই পারফরম্যান্সের পর তৃতীয় টেস্টে লর্ডসে তাঁকে দলের বাইরে রাখা অসম্ভব। কিন্তু এখন সে কথা ভাবছেন না আকাশদীপ। আপাতত এই টেস্ট জয়ের আনন্দ আরও কিছুটা উপভোগ করতে চান তিনি।




