ওয়েড ডেস্ক: ভারতের সঙ্গীত জগতে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। প্রয়াত কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোসলে (Asha Bhosle)। তাঁর মৃত্যুতে যেন ইন্দ্রপতন ঘটল দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে। অসংখ্য অনুরাগী থেকে শিল্পী—সবাই আজ শোকে মুহ্যমান। তবে এই শোকের মাঝেই ব্যক্তিগতভাবে বড় আঘাত পেলেন ক্রিকেটের মহাতারকা শচীন তেণ্ডুলকর (Sachin Tendulkar), যিনি হারালেন তাঁর ‘মা’-সম প্রিয়জনকে।
প্রথম দর্শনে সঙ্গীত এবং ক্রিকেট—দুই ভিন্ন জগতের দুই কিংবদন্তির মধ্যে বিশেষ কোনও যোগসূত্র ছিল না। একদিকে সুরের জাদুতে কোটি হৃদয় জয় করা আশা, অন্যদিকে ব্যাট হাতে বিশ্বজয়ী শচীন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দুই মুম্বইকরের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এক আত্মীয়তার বন্ধনে।
এই সম্পর্কের শিকড় লুকিয়ে রয়েছে আরও গভীরে। সুরকার শচীন দেব বর্মন-এর নাম অনুসারেই নাম রাখা হয়েছিল শচীনের। আর শচীন দেব বর্মনের পুত্রবধূ ছিলেন আশা ভোঁসলে। সেই সূত্রেই যেন জন্ম নেয় এক অনন্য মা-ছেলের সম্পর্ক।
মঙ্গেশকর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মতোই ক্রিকেটপ্রেমী ছিলেন আশা। নিয়মিত মাঠে গিয়ে খেলা দেখতেন তিনি। সেখানেই পরিচয় শচীনের সঙ্গে, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় গভীর স্নেহের সম্পর্কে। বহুবারই আশা জানিয়েছেন, শচীন তাঁর কাছে নিজের সন্তানের মতো।
একটি সাক্ষাৎকারে আশা ভোঁসলে জানান, শচীন তাঁকে ‘আই’ বলে ডাকতেন—মারাঠি ভাষায় যার অর্থ ‘মা’। নিজের জন্মদাত্রী মায়ের পাশাপাশি আশাকেও একই মর্যাদা দিয়েছেন শচীন। সেই সম্মান ও ভালোবাসায় আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন কিংবদন্তি গায়িকা।
তিনি স্মৃতিচারণায় বলেছিলেন, “শচীন আমাকে নিজের মায়ের মতোই সম্মান করে। আমিও ওর জন্য সবসময় প্রার্থনা করি। যেদিন প্রথম আমাকে ‘মা’ বলে ডাকল, সত্যিই খুব অবাক হয়েছিলাম।”
আশা আরও জানিয়েছিলেন, শচীনের মতো সন্তান থাকলে তিনি গর্বিত হতেন। তাঁর দুই পুত্রের মধ্যে হেমন্ত ভোঁসলের মৃত্যু হয় ২০১৫ সালে, অপর পুত্র আনন্দ এখনও জীবিত।
বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং বিশেষ মুহূর্তে বহুবার একসঙ্গে দেখা গিয়েছে এই ‘মা-ছেলে’কে। এমনকি বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর নিয়েও ২০২৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন আশা। পরে একটি চ্যাট শো’তেও একসঙ্গে দেখা যায় দুই কিংবদন্তিকে।
আজ আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শুধু সঙ্গীত জগত নয়, হারাল এক আবেগঘন সম্পর্কের উষ্ণতাও। শচীনের জীবনে ‘মা’ শব্দটি আজ আরও একবার শূন্যতায় ভরে গেল।



