ওয়েব ডেস্ক: পড়াশোনা, চিকিৎসা বা পেশাগত কারণে যাঁরা রাজ্যের বাইরে রয়েছেন, তাঁদের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR Update) সংক্রান্ত শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে না। ওই ভোটারের পরিবর্তে পরিবারের কোনও সদস্য প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে শুনানিকেন্দ্রে গেলেই চলবে। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্দেশ পাঠানো হয়েছে রাজ্যের সমস্ত জেলার নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে।
কমিশন জানিয়েছে, পড়াশোনা বা চিকিৎসার জন্য সাময়িক ভাবে রাজ্যের বাইরে থাকা ভোটারদের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত হয়ে যাঁরা বাইরে রয়েছেন, তাঁরাও এই ছাড়ের আওতায় পড়বেন। নো-ম্যাপিং তালিকা বা এনুমারেশন ফর্মে তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে যদি এই ভোটারদের শুনানির নোটিস দেওয়া হয়ে থাকে, তা হলে তাঁদের সশরীরে হাজিরা দিতে হবে না। পরিবারের কোনও সদস্য প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে শুনানিকেন্দ্রে উপস্থিত হলেই শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এ ছাড়াও রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, পিএসইউ-তে কর্মরত কর্মী, পাশাপাশি সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীতে কর্মরত ভোটারদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সশরীরে হাজিরা না দিলেও এই সমস্ত ক্ষেত্রে শুনানির প্রক্রিয়া আগের নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হবে।
শুনানিকেন্দ্রে যাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের দুটি ধরনের নথি সঙ্গে রাখতে হবে। প্রথমে, যাঁর নামে শুনানির নোটিস জারি হয়েছে, তাঁর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ দেখাতে হবে। এর পর সংশ্লিষ্ট ভোটারের এসআইআর সংক্রান্ত নথি জমা দিতে হবে। কমিশনের প্রকাশিত ১৩টি নথির তালিকার মধ্যে যে কোনও একটি নথি দেখালেই যথেষ্ট হবে।
কমিশন আগেই জানিয়েছে, ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সি ভোটারদের শুনানিকেন্দ্রে যেতে হবে না। তাঁদের বাড়িতেই কমিশনের প্রতিনিধি গিয়ে শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে প্রতিবন্ধী ও শারীরিক ভাবে অসুস্থ ভোটারদের ক্ষেত্রেও। এ জন্য পরিবারের কোনও সদস্যকে ইআরও বা এইআরও-র কাছে আবেদন জানাতে হবে। ইতিমধ্যে যাঁরা শুনানির নোটিস পেয়েছেন, তাঁদের ফোন করে হাজিরা না দেওয়ার বিষয়টি জানানো হবে।
বর্তমানে শুনানির প্রাথমিক পর্যায়ে নো-ম্যাপিং তালিকাভুক্ত ভোটারদের তলব করা হচ্ছে। যাঁরা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে এনুমারেশন ফর্মে নিজেদের কোনও যোগসূত্র দেখাতে পারেননি, তাঁদের নো-ম্যাপিং তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় মোট ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬ জন ভোটার রয়েছেন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ২৫ লক্ষ ৬০ হাজার ৪৭৬ জনকে শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছে। মোট শুনানি সম্পন্ন হয়েছে ৭ লক্ষ ২৫ হাজার ৮৯৯ জনের। শুধু বৃহস্পতিবারই ৬৮ হাজার ৫৭৭ জনের শুনানি হয়েছে। নো-ম্যাপিং তালিকার শুনানি শেষ হলে তথ্যগত অসঙ্গতির ভিত্তিতে আরও কিছু ভোটারকে তলব করতে পারে কমিশন।



