Wednesday, January 21, 2026
spot_img
28.2 C
West Bengal

Latest Update

Science News

Science News | সাহায্য় চাইতে পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে এলিয়েন সভ্যতা?

Follow us on :

ওয়েব ডেস্ক: পৃথিবীবাসীর তুলনায় অনেক বেশি উন্নত, শক্তি ও প্রযুক্তিতে (Science News) বহু যোজন এগিয়ে—ভিনগ্রহী বা এলিয়েনদের কথা উঠলেই সাধারণত এমন ছবিই ভেসে ওঠে মানুষের চোখের সামনে। কল্পবিজ্ঞানের বই হোক বা হলিউডের সিনেমা, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এলিয়েনদের দেখানো হয় পৃথিবীবাসীর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও ভয়ঙ্কর রূপে। তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ মানেই হয় ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ, নয়তো মানবজাতির নতুন করে বেঁচে ওঠার লড়াই।

কিন্তু বাস্তব চিত্র হয়তো এতটা নাটকীয় নয় বলেই মনে করেন ব্রিটেনের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডেভিড কিপিং। তাঁর মতে, এলিয়েনরা পৃথিবীবাসীর তুলনায় শক্তিশালী হতে পারে—এ কথা মানতে তাঁর আপত্তি নেই। তবে বহির্বিশ্বের কোনও সভ্যতার সঙ্গে যদি পৃথিবীর মানুষের যোগাযোগ বা সংঘর্ষ হয়, সে ক্ষেত্রে যে পৃথিবীবাসীরই নিশ্চিত পরাজয় হবে, এমনটা মনে করেন না তিনি।

এই প্রসঙ্গে একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরেছেন কিপিং—পৃথিবীবাসীর সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনই বা কেন হবে এলিয়েনদের? তাঁর ব্যাখ্যা, বিপদে না পড়লে কেউ সাধারণত নতুন উপায় খুঁজতে বেরোয় না। ডেভিডের যুক্তি অনুযায়ী, আমরা রাতের আকাশে খালি চোখে যে প্রায় ২,৫০০ নক্ষত্র দেখতে পাই, তার এক তৃতীয়াংশও দানবাকৃতির নয়। অথচ এই নক্ষত্রগুলির অবজার্ভেশন সিগনাল অত্যন্ত শক্তিশালী। অর্থাৎ, শক্তিশালী সিগনাল মানেই যে কোনও উন্নত বা আগ্রাসী সভ্যতার ইঙ্গিত, এমন নয়।

মহাজাগতিক বিস্ফোরণের প্রসঙ্গও টেনেছেন কিপিং। তাঁর মতে, আকাশগঙ্গার মতো ছায়াপথে প্রতি শতকে হয়তো দু’টি বড় বিস্ফোরণ ঘটে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা প্রতি বছরই বহু এমন বিস্ফোরণ লক্ষ্য করেন। এর কারণ, ওই সব নক্ষত্র আসলে জীবনসায়াহ্নে পৌঁছে গিয়েছে এবং ধ্বংসের প্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

এলিয়েনদের অস্তিত্ব কীভাবে জানা যেতে পারে, সে বিষয়েও নিজের তত্ত্ব তুলে ধরেছেন এই ব্রিটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তাঁর মতে, সব সময় মহাজাগতিক বিস্ফোরণের মাধ্যমেই নয়, কোনও গ্রহে পরমাণু যুদ্ধের সমতুল্য কোনও ঘটনা ঘটলেও তার ইঙ্গিত ধরা পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে পৃথিবীবাসী ও এলিয়েনদের প্রথম সাক্ষাৎ হবে বেশ ‘লাউড’ বা স্পষ্ট সংকেতের মাধ্যমেই।

তবে কিপিং এ কথাও স্পষ্ট করেছেন যে, মহাজগতের সব সভ্যতাই ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং উন্নত মহাজাগতিক প্রযুক্তির সাহায্যে জলবায়ু পরিবর্তন বা দূষণের মতো বিষয়ও শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। ১৯৭৭ সালে পৃথিবীতে ধরা পড়া রহস্যজনক ‘Wow!’ সিগনাল এলিয়েন সভ্যতা থেকে আসা সাহায্যের আর্তি হতে পারে বলেও মত তাঁর।

সব মিলিয়ে ডেভিড কিপিংয়ের বক্তব্য, এলিয়েন মানেই তারা পৃথিবী আক্রমণ করতে আসবে বা মানবজাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে—এমন ধারণা নিছক কল্পবিজ্ঞানেই মানায়। বাস্তব হয়তো তার চেয়েও অনেক বেশি জটিল এবং অপ্রত্যাশিত।

Entertainment