কলকাতা: ব্রিগেডের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল-সহ মোট পাঁচ জন বিধায়ক। তবে তখনও স্পষ্ট হয়নি কার হাতে কোন দপ্তরের দায়িত্ব যাবে। সোমবার থেকেই শুরু হল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendi Adhikari) মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন প্রক্রিয়া। প্রথম দফাতেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন মন্ত্রীদের হাতে।
২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে একাধিক প্রশাসনিক বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠকের পরই মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের ঘোষণা করা হয়।
তৃণমূল সরকারের আমলে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন উদয়ন গুহ। এবার সেই দপ্তরের ভার পেলেন তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নিশীথ প্রামাণিক। পাশাপাশি ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্বও সামলাবেন তিনি।
রেশন দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূল সরকারের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে মন্ত্রিত্ব হারাতে হয়েছিল। পরে সেই দপ্তরের দায়িত্ব পান রথীন ঘোষ। এবার খাদ্য দপ্তরের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে মতুয়া সমাজের প্রতিনিধি অশোক কীর্তনিয়ার হাতে।
বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা দিলীপ ঘোষকে একসঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, প্রাণী সম্পদ বিকাশ এবং কৃষি বিপণন দপ্তরের ভার সামলাবেন তিনি।
অন্যদিকে অগ্নিমিত্রা পল পেয়েছেন নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব। পাশাপাশি পুর বিষয়ক দপ্তরের কাজও দেখবেন তিনি।
ক্ষুদিরাম টুডুর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে আদিবাসী উন্নয়ন, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ, সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা বোর্ড এডুকেশন দপ্তরের দায়িত্ব।
এক নজরে শুভেন্দু মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর বণ্টন:
- দিলীপ ঘোষ — পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, প্রাণী সম্পদ বিকাশ, কৃষি বিপণন
- অগ্নিমিত্রা পল — নারী ও শিশু কল্যাণ, পুর বিষয়ক
- নিশীথ প্রামাণিক — উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ
- অশোক কীর্তনীয়া — খাদ্য দপ্তর
- ক্ষুদিরাম টুডু — আদিবাসী উন্নয়ন, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ, সংখ্যালঘু উন্নয়ন, মাদ্রাসা বোর্ড এডুকেশন



