কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে জনমত বুঝতে নতুন উদ্যোগে নামল বঙ্গ বিজেপি। দলের সদ্যনিযুক্ত সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের নির্দেশে রাজ্য নেতাদের পথে নামার বার্তা ছিল আগেই। সেই নির্দেশ মেনেই শনিবার থেকে কার্যত রাস্তায় নামল রাজ্য বিজেপি। তবে সেই কর্মসূচির মধ্যেই ফের প্রকাশ্যে এল দলের সাংগঠনিক দুর্বলতার ছবিও। নিচুস্তরের নেতা-কর্মীদের উপর ভরসা না রেখে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই পরামর্শ নিয়ে ইস্তেহার তৈরির পথে হাঁটল পদ্ম শিবির।
শনিবার সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য কার্যালয় থেকে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে সূচনা হয় ‘সংকল্প পত্র পরামর্শ যাত্রা কর্মসূচি’র। জানানো হয়েছে, রাজ্যজুড়ে মোট ১০০০টি জায়গায় বসানো হবে ড্রপ বক্স, যেখানে সাধারণ মানুষ তাঁদের মতামত জানাতে পারবেন।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমাদের সংকল্প পত্র যেন সর্বব্যাপী হয়, সেই কারণেই আজ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হল। ২ কোটি ৩৮ লক্ষ মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন আনতে পারে বিজেপি—এটা মানুষ মনস্থির করেছে। তাঁদের মতামত গ্রহণ করতেই রাজ্যের ১০০০টি জায়গায় এই ড্রপ বক্স রাখা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, এই কমিটির সদস্যরা বিজেপির ৪৩টি সাংগঠনিক জেলায় গিয়ে মতামত সংগ্রহ করবেন।
শমীক ভট্টাচার্য জানান, ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ভ্রাম্যমাণ গাড়ির মাধ্যমে ড্রপ বক্স ঘোরানো হবে। পাশাপাশি ৯৭২৭২৯৪২৯৪ নম্বরের মাধ্যমে, মেল আইডি, কিউআর কোড বা সরাসরি দলীয় দপ্তরে চিঠি দিয়েও মানুষ তাঁদের মতামত জানাতে পারবেন। তাঁর কথায়, “আমাদের লক্ষ্য বেকার শিক্ষিত যুবকদের চাকরি। শিল্পপতিদের কাছেও আমাদের অনুরোধ—যাঁরা রাজ্যে বিনিয়োগ করতে চান, তাঁরা পরামর্শ দিন। সাধারণ মানুষের কাছে জানতে চাইছি, কীভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব।”
এই কর্মসূচির পেছনের কারণও ব্যাখ্যা করেন রাজ্য সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে রাজ্যের মানুষকে ১৩টি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেই প্রকল্পগুলির সুফল তুলে ধরে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে প্রায় ১০ হাজার চিঠি পৌঁছে দেওয়া হবে। তালিকায় থাকবেন সেনাবাহিনীর সদস্য, শিক্ষক-অধ্যাপক, ছোট ও বড় ব্যবসায়ী, অসংগঠিত শ্রমিক থেকে শুরু করে প্রান্তিক মানুষজন।
১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মতামত সংগ্রহের পর্ব। তবে একাধিক নির্বাচনে পরপর মুখ থুবড়ে পড়ার পর, ছাব্বিশের ভোটে বিজেপির এই ‘সংকল্প পত্র পরামর্শ যাত্রা’ আদৌ কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলের এক বড় অংশের মধ্যেই সংশয় রয়ে গেল।




