স্পোর্টস ডেস্ক: ম্যাচ শেষ। ক্যামেরা যখন ইডেন গার্ডেন্স-এর ড্রেসিং রুমে ঘুরে গেল, তখন এক অন্য দৃশ্য। হাতে ধরা ব্যাটে আলতো করে চুমু খাচ্ছেন সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)। ওই এক চুমুই যেন বলে দিল, এত দিন বুকের ভিতর কী বিরাট পাথর জমে ছিল।
তার পরের দৃশ্য আরও আবেগঘন। একে একে এসে জড়িয়ে ধরলেন হার্দিক পাণ্ডিয়া, অক্ষর পটেল, অভিষেক শর্মা এবং সব শেষে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। সতীর্থদের আলিঙ্গনে আরও স্পষ্ট হয়ে গেল—সঞ্জুর লড়াইটা কতটা কঠিন ছিল।
ঠান্ডা মাথায় ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) সেমিফাইনালে তুলে দিলেন সঞ্জু। ৩ রানের জন্য শতরান হাতছাড়া হলেও মুখে আক্ষেপের ছাপ নেই। বরং দলকে জেতানোর তৃপ্তিই ধরা পড়ল তাঁর চোখেমুখে। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে রোমারিও শেফার্ড-কে চার মারার পরই পিচে বসে পড়েন তিনি। ঈশ্বরকে প্রণাম। ৫০ বলে অপরাজিত ইনিংস—যেন সব অবজ্ঞার জবাব।
বিশ্বকাপের আগে নিউ জিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল-এর বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে রান পাচ্ছিলেন না। টুর্নামেন্টের শুরুতেও তাঁর উপর ভরসা দেখাননি কোচ গৌতম গম্ভীর ও টিম ম্যানেজমেন্ট। অভিষেকের অফ ফর্মই ফের সঞ্জুর দিকে তাকাতে বাধ্য করে দলকে।
আর সুযোগ পেয়ে হতাশ করেননি তিনি। বিশ্বকাপের ‘কোয়ার্টার ফাইনাল’-এ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে হার মানেই বিদায়—এমন সমীকরণে ব্যাট হাতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ২২ গজের এক প্রান্ত আগলে রাখলেন সঞ্জু। সংযত, পরিমিত, পরিস্থিতি বুঝে খেলা—ব্যক্তিগত মাইলফলকের দিকে না তাকিয়ে দলের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিলেন। অভিনন্দন আর উচ্ছ্বাসের মাঝেও ছিলেন নিয়ন্ত্রিত, স্থির।
ম্যাচের সেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে সঞ্জু বললেন, “দীর্ঘ দিন ধরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলছি। ১০-১২ বছর আইপিএল খেলেছি। দেশের হয়েও প্রায় ১০ বছর। বিরাট কোহলি, মহেন্দ্র সিংহ ধোনিদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। ওরা পরিস্থিতি বুঝে কী ভাবে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করত, তা দেখেছি। সেই অভিজ্ঞতাই সাহায্য করেছে।”
রবিবারের ইনিংস নিয়ে তাঁর সংযত মন্তব্য, “আগের ম্যাচে আগে ব্যাট করে বড় রান তোলার লক্ষ্য ছিল। শুরু থেকেই মারতে হয়েছিল। সে রকম খেললে আউট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ দিন জানতাম কত রান দরকার। সেই অনুযায়ী খেলেছি। এক একটা বল ধরে ভেবেছি। বলের মান বুঝে শট নিয়েছি। বিশেষ কিছু করেছি বলে মনে হয় না। তবে এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা দিন।”
ইডেনের আকাশে তখন উৎসবের রং। আর সঞ্জুর ব্যাটে চুমু—সেই ছবিটাই হয়তো হয়ে থাকবে এই জয়ের সবচেয়ে বড় প্রতীক।



