ওয়েব ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর পর দ্রুত নতুন আয়াতোল্লা নির্বাচন করল তেহরান। সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে জানা গিয়েছে, খামেনেইয়ের উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর ঘনিষ্ঠ আরাফিকে (Ayatollah Arafi) অস্থায়ী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এত দিন তিনি ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্ট্স-এর ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরেও আক্রমণাত্মক অবস্থান থেকে সরে আসেনি ইরান। বরং ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার বার্তা আরও জোরালো ভাবে তুলে ধরেছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান জানিয়েছেন, এই হামলার জবাব দেওয়া ইরানের ‘বৈধ অধিকার এবং আশু কর্তব্য’। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যাঁরা এই ঐতিহাসিক অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া এবং ন্যায়বিচার আদায় করা আমাদের কর্তব্য। এই মহান দায়িত্ব পালনে আমরা কোনও খামতি রাখব না।”
আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর এটাই পেজ়েশকিয়ানের প্রথম সরকারি বিবৃতি। শনিবারের ওই হামলায় খামেনেই ছাড়াও প্রাণ হারান ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজ়াদা, সেনাপ্রধান আব্দুল রহিম মৌসাভি এবং এক শীর্ষ সেনা কমান্ডার। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ইতিমধ্যে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো সচল রাখতে তৎপর হয়েছে তেহরান। ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজ়া আরিফ সকল মন্ত্রী ও প্রাদেশিক গভর্নরদের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসন পরিচালনায় যাতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
অন্য দিকে, আমেরিকা ও ইজ়রায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার শীর্ষ ব্যক্তি আলি লারিজানি। তিনি খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের অন্যতম সদস্য এবং ইরানের ক্ষমতার অন্দরে অত্যন্ত প্রভাবশালী মুখ। তাঁর বক্তব্য, এই হামলার উপযুক্ত জবাব দেবে ইরান।
খামেনেই-পরবর্তী অধ্যায়ে ইরানের নেতৃত্ব কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে আপাতত স্পষ্ট— নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও অবস্থানে অনড় তেহরান।



