ওয়েব ডেস্ক: ছোটবেলায় স্কুলে ফার্স্ট এইডের নানা প্রাথমিক পাঠ অনেকেই শিখেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই জ্ঞান অনেকাংশেই ভুলে যাই আমরা। অথচ হঠাৎ কোনও মেডিক্যাল এমার্জেন্সির মুহূর্তে সামান্য কিছু সঠিক পদক্ষেপই বাঁচাতে পারে একটি মূল্যবান প্রাণ। শুধু ব্যান্ড-এইড বা ডেটল-তুলো নয়, জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়, সে সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, প্যানিক অ্যাটাক কিংবা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের মতো পরিস্থিতিতে হাসপাতালে পৌঁছনোর আগের কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সাধারণ মানুষকেও কিছু প্রাথমিক কৌশল জেনে রাখা উচিত (Stroke First Aid Tips)।
শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করা জরুরি: প্রথমেই খেয়াল করতে হবে অসুস্থ ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক আছে কি না। তিনি দ্রুত শ্বাস নিচ্ছেন, না কি শ্বাসকষ্ট হচ্ছে— তা বোঝার চেষ্টা করুন। শ্বাসের গতি থেকেই অনেক সময় পরিস্থিতির গুরুত্ব আন্দাজ করা যায়।
পালস পরীক্ষা করুন: বুকের বাঁ দিক বা হাতের কবজিতে চাপ দিয়ে হৃদস্পন্দন বোঝার চেষ্টা করতে হবে। হৃদপিণ্ডের গতি স্বাভাবিক, দ্রুত নাকি ধীর— তা বোঝা জরুরি। পালস পাওয়া যাচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
চেস্ট কমপ্রেশন শিখে রাখা প্রয়োজন: জরুরি পরিস্থিতিতে ‘চেস্ট কমপ্রেশন’ অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। সঠিক নিয়মে বুকের উপর দুই হাত রেখে চাপ দিতে হয়। চিকিৎসকদের মতে, প্রতি মিনিটে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ বার কমপ্রেশন দেওয়া প্রয়োজন। তবে এটি করার আগে প্রশিক্ষণ থাকা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে অনলাইনে এ বিষয়ে একাধিক প্রশিক্ষণমূলক ভিডিও পাওয়া যায়।
প্রয়োজন হতে পারে সিপিআর: যদি অসুস্থ ব্যক্তি শ্বাস না নেন বা পালস না পাওয়া যায়, তাহলে ‘সিপিআর’ বা ‘মাউথ টু মাউথ রিসাসিটেশন’-এর প্রয়োজন হতে পারে। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া বা প্রশিক্ষণ ছাড়া এটি করার চেষ্টা না করাই ভালো।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে কী করবেন?
কোনও ব্যক্তি গুরুতর জখম হয়ে রক্তক্ষরণে ভুগলে, পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থান শক্ত করে বেঁধে দিন। কাপড় রক্তে ভিজে গেলে সেটি খুলবেন না। তার উপর আরও কাপড় চাপা দিয়ে চাপ বজায় রাখুন।
জরুরি নম্বর হাতের কাছে রাখুন: বিপদের সময়ে নিকটবর্তী হাসপাতাল, নার্সিংহোম, দমকল বা স্থানীয় থানার ফোন নম্বর সঙ্গে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শান্ত থাকাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অসুস্থ ব্যক্তির নয়, যিনি ফার্স্ট এইড দিচ্ছেন তাঁরও শান্ত থাকা জরুরি। মাথা ঠান্ডা রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারলেই সঠিকভাবে সাহায্য করা সম্ভব।
ডিসক্লেমার: এই প্রতিবেদন সাধারণ জ্ঞানের জন্য। তবে পরিস্থিতি বুঝে স্থানীয় হাসপাতালে দ্রুত নিয়ে যাওয়া অথবা চিকিৎসককে দ্রুত দেখানো আবশ্যিক।



