Monday, May 18, 2026
spot_img
44.2 C
West Bengal

Latest Update

Ebola Outbreak | ইবোলার প্রকোপে হু হু করে বাড়ছে মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা করল WHO

Follow us on :

ওয়েব ডেস্ক: আবারও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ইবোলা ভাইরাস (Ebola Outbreak)। কঙ্গো এবং উগান্ডায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০০-র বেশি মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা অন্তত ৮৮।

কী বলছে WHO?

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জরুরি অবস্থার ঘোষণা করেছে WHO। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও এখনও কোভিড-১৯-এর মতো অতিমারির আকার নেয়নি। তাই এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

WHO-র ডিরেক্টর জেনারেল Tedros Adhanom Ghebreyesus জানিয়েছেন, কঙ্গো এবং উগান্ডায় Bundibugyo ভাইরাসের কারণে ইবোলার সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। তাঁর কথায়,
“এটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করেছে। তবে এখনও অতিমারির পরিস্থিতি হয়নি। আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা এবং সংক্রমণ কত দূর ছড়িয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।”

WHO আরও জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত পরীক্ষাগারে আটজনের শরীরে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। তবে আরও প্রায় ২৫০ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মৃতদের অনেকের শরীরেও ইবোলার সংক্রমণ ছিল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উগান্ডায় গত ২৪ ঘণ্টায় দুই আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে, যাঁদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, আক্রান্তদের একজন সম্প্রতি কঙ্গো থেকে ফিরেছিলেন। যদিও দুই রোগীর মধ্যে সরাসরি কোনও সংযোগ এখনও পাওয়া যায়নি।

ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক, সতর্ক WHO

প্রাথমিক পরীক্ষার রিপোর্টে WHO জানিয়েছে, এই ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক হতে পারে। সংক্রমণ আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। অন্য দেশেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সমন্বয়ের আবেদন জানিয়েছে WHO।

ইবোলা ভাইরাস কী?

Ebola Virus Disease একটি প্রাণঘাতী ভাইরাসঘটিত রোগ, যা মূলত প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। অর্থোইবোলাভাইরাস পরিবারের অন্তর্গত এই ভাইরাসের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে রয়েছে ইবোলা ভাইরাস, সুদান ভাইরাস এবং Bundibugyo ভাইরাস।

বর্তমানে কঙ্গো এবং উগান্ডায় Bundibugyo প্রজাতির সংক্রমণ দেখা দিয়েছে, যা তুলনামূলক বিরল হলেও অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই ভাইরাসে মৃত্যুহার গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

কীভাবে ছড়ায় ইবোলা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলখেকো বাদুড় থেকেই সাধারণত মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। এছাড়াও শিম্পাঞ্জি, গোরিলা, বাঁদর, বুনো হরিণ কিংবা শজারুর মতো প্রাণীর সংস্পর্শ থেকেও সংক্রমণ হতে পারে।

সংক্রমিত ব্যক্তির রক্ত, শরীরের তরল, বমি, বীর্য, পোশাক, বিছানা বা দূষিত পরিবেশের সংস্পর্শে এলেও ইবোলা ছড়াতে পারে। তাই রোগীকে আলাদা রাখা এবং কড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

ইবোলার উপসর্গ কী?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শরীরে ভাইরাস প্রবেশের পর ২ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে ইবোলা।

প্রাথমিক উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে—

হঠাৎ জ্বর
তীব্র ক্লান্তি
মাথাব্যথা
পেশিতে ব্যথা
গলা ব্যথা

পরবর্তীতে দেখা দিতে পারে—

বমি ও ডায়রিয়া
পেটব্যথা
শরীরে ফুসকুড়ি
কিডনি ও যকৃতের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া
নাক, মাড়ি বা শরীরের অন্যান্য অংশ দিয়ে রক্তক্ষরণ

চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর ক্ষেত্রে সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের উপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে এই ভাইরাস।

কীভাবে নির্ণয় করা হয় রোগ?

RT-PCR, ELISA, অ্যান্টিজেন ক্যাপচার ডিটেকশন টেস্ট এবং ভাইরাস আইসোলেশন বাই সেল কালচার পদ্ধতিতে ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়।

ইবোলার চিকিৎসা ও টিকা

WHO-র সুপারিশ অনুযায়ী বর্তমানে mAb114 (Ansuvimab) এবং REGN-EB3 (Inmazeb)-এর মতো অ্যান্টিবডি থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয় আক্রান্তদের।

এছাড়াও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পৃথক রাখা, ২১ দিন নজরদারি চালানো এবং মৃতদেহ নিরাপদে সমাধিস্থ করার নিয়ম মেনে চলা হয়।

ইবোলার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত টিকাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

Ervebo
Zabdeno
Mvabea

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত শনাক্তকরণ, আইসোলেশন এবং সচেতনতা বাড়ানোই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

Entertainment