কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে বড় পদক্ষেপ করল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকের পর রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন (Seventh state pay commission) কার্যকর করার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। যদিও মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ প্রসঙ্গে এদিন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। তবে বিষয়টি সরকারের অ্যাজেন্ডায় রয়েছে বলেও স্পষ্ট করেছেন মন্ত্রী।
রাজ্য সরকারের এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে ডিএ বকেয়া এবং বেতন কাঠামো নিয়ে অসন্তোষে ভুগছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। বিজ্ঞপ্তি জারি হলেও এখনও বহু কর্মীর হাতে ডিএ-র বকেয়া পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ ছিল। সেই আবহেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা, বিশেষ করে অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করা হবে।
গত ৪ মে প্রকাশিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে। প্রথমবার রাজ্যে ক্ষমতায় আসে বিজেপি সরকার। এরপর ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ-র উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ গ্রহণের পর থেকেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছে নতুন সরকারকে। তারই অংশ হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৯ দিনের মাথায় সপ্তম পে কমিশনে অনুমোদন দিল রাজ্য মন্ত্রিসভা।
সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার নতুন পে কমিশন গঠন করে। রাজ্যে ষষ্ঠ পে কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ফলে নতুন পে কমিশন কার্যকর হওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছিল প্রশাসনিক মহলে।
এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ নিয়ে, যা নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজ্যে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৯১ থেকে ৩.১৫-এর মধ্যে রাখা হতে পারে। সেই হিসেবে বর্তমানে যাঁদের বেসিক বেতন ১৮ হাজার টাকা, তাঁদের বেতন বেড়ে ৫২ হাজার থেকে ৫৬ হাজার টাকার মধ্যে পৌঁছতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ফলে সপ্তম পে কমিশনে সায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজ্যের লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের কাছে বড় স্বস্তির খবর বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।



