স্পোর্টস ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর আর অপেক্ষা করতে পারছিলেন না ভারতীয় অলরাউন্ডার শিবম দুবে (Shivam Dube)। চার বছরের ছেলে আয়ান এবং দু’বছরের মেয়ে মেহউইশের কাছে দ্রুত ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সব পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় টিকিটের সমস্যা। রবিবার রাতে আহমেদাবাদ থেকে মুম্বই ফেরার কোনও বিমানের টিকিট না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ট্রেনেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি— তাও আবার ছদ্মবেশে।
এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন দুবে। বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে আহমেদাবাদে গিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী অঞ্জুম এবং এক বন্ধু। তবে তাঁদের দুই সন্তান তখন মুম্বইয়ের বাড়িতেই ছিল। দুবে বলেন, বিমানে কোনও টিকিট না পাওয়ায় সোমবার ভোরে আহমেদাবাদ থেকে ট্রেনে মুম্বই ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সড়কপথে ফিরলেও সময় বেশি লাগত বলেই ট্রেন বেছে নেন। ট্রেনে যাত্রায় প্রায় সাড়ে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগে।
তবে তাঁর এই সিদ্ধান্ত শুনে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সদ্য বিশ্বকাপ জয়ের পর ট্রেনে সাধারণ যাত্রীর মতো ভ্রমণ করলে কেউ চিনে ফেলতে পারে— এমন আশঙ্কাই ছিল সবার। তবু শেষ পর্যন্ত স্ত্রী ও বন্ধুকে নিয়ে থার্ড এসি-র টিকিট কেটে ফেলেন দুবে।
নিজেও জানতেন ঝুঁকি আছে। তাই পরিকল্পনা করা হয় ছদ্মবেশে যাত্রার। দুবে জানান, তিনি টুপি, মাস্ক এবং ফুলহাতা টি-শার্ট পরে স্টেশনে যান। ভোর ৫টা ১০ মিনিটে ট্রেন ছিল। তিনি ভেবেছিলেন এত ভোরে ভিড় কম থাকবে।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে যাওয়া অনেক দর্শকই সেই ট্রেনে ফিরছিলেন। স্টেশনে তখনও উল্লাসের আবহ, বহু সমর্থকের গায়ে ভারতীয় দলের জার্সি। পরিস্থিতি দেখে শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বদল করেন দুবে। তিনি স্ত্রীকে আগে ট্রেনে উঠতে বলেন, আর নিজে গাড়িতে অপেক্ষা করেন। ট্রেন ছাড়ার মাত্র পাঁচ মিনিট আগে গিয়ে ওঠেন তিনি।
ট্রেনে উঠে সরাসরি উপরের বার্থে গিয়ে শুয়ে পড়েন দুবে। পুরো যাত্রাপথে কেউ তাঁকে চিনতে পারেননি। এমনকি একবার বার্থ থেকে নেমে শৌচাগারেও গিয়েছিলেন, তবু কারও সন্দেহ হয়নি।
তবে মুম্বইয়ের বোরিভল্লি স্টেশনে নামার সময় নতুন চিন্তা শুরু হয় তাঁর। তখন দিনের আলো, ভিড়ের মধ্যে দিয়ে বের হওয়া কঠিন হতে পারে— এই আশঙ্কায় আগেভাগেই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। দুবে জানান, প্রথমে পুলিশ ভেবেছিল তিনি বিমানবন্দরে নামবেন। পরে যখন জানান তিনি স্টেশনে নামবেন, তখন তারা অবাক হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই স্টেশন থেকে বেরিয়ে দ্রুত বাড়ি পৌঁছন দুবে। তারপরই কোলে তুলে নেন তাঁর দুই সন্তানকে। বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের সঙ্গে সেই মুহূর্তই ছিল তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।



