কলকাতা: নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত পাঁচ মন্ত্রী এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক সম্পন্ন করেছি। মন্ত্রিসভায় আমার পাঁচজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতীর্থ উপস্থিত ছিলেন। ডবল ইঞ্জিন সরকার দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করবে। দীর্ঘদিন পর ভয়মুক্ত ও অবাধ নির্বাচন দেখল দেশ তথা বিশ্বের মানুষ। ভোটকর্মী, গণনাকর্মী, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও সমস্ত প্রার্থীদের ধন্যবাদ জানাই।”
প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে মোট ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেই সিদ্ধান্তগুলি—
প্রথম সিদ্ধান্ত: সরকার গঠনের পথে যাঁদের আত্মবলিদান রয়েছে, সেই ৩২১ জন নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব নিল রাজ্য সরকার।
দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত: রাজ্যের জনবিন্যাসে পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে সীমান্ত সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে কাঁটাতার নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করা হবে।
তৃতীয় সিদ্ধান্ত: ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’ এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত’-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রাজ্য সরকার।
চতুর্থ সিদ্ধান্ত: এতদিন রাজ্যের আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকেরা কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারতেন না। এবার থেকে তাঁরা চাইলে সেই সুযোগ পাবেন।
পঞ্চম সিদ্ধান্ত: আজ থেকেই রাজ্যে কার্যকর করা হচ্ছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এতদিন পশ্চিমবঙ্গে অসাংবিধানিকভাবে আইপিসি চালু ছিল।
ষষ্ঠ সিদ্ধান্ত: সরকারি চাকরিতে আবেদনকারীদের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও দাবি করেন, “পূর্বতন সরকার রাজ্যের অনেক ক্ষতি করে গিয়েছে।” তবে তিনি আশ্বাস দেন, বর্তমানে চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকে দিলীপ ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পাল নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠক করবেন।



