কলকাতা: আন্দামান অঞ্চলে বর্ষা প্রবেশে যে বিপুল জলীয় বাষ্প সহায়ক হয়েছে, সেই জলীয় বাষ্পই এখন পশ্চিমবঙ্গে অস্বস্তির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাপমাত্রা খুব বেশি না থাকলেও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে চরম ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের আশপাশেই রয়েছে। কোথাও কোথাও সর্বোচ্চ ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। কলকাতায় মঙ্গলবার সকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ২.৫ ডিগ্রি বেশি। সোমবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি হলেও আর্দ্রতার জেরে অস্বস্তি অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।
ভোর বা রাতেও মিলছে না স্বস্তি। দিনের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা। ঘাম শুকোতে না পারায় প্যাচপ্যাচে অস্বস্তিতে ভুগছেন সাধারণ মানুষ।
আবহবিদদের মতে, এই পরিস্থিতির মূল কারণ বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতা। সাধারণত আর্দ্রতা ৪০ শতাংশের আশেপাশে থাকলে আবহাওয়া তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক থাকে। কিন্তু বর্তমানে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সর্বনিম্ন আর্দ্রতা ৬২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৮৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে। ফলে শরীর থেকে নির্গত ঘাম সহজে শুকোতে পারছে না, আর তাতেই বাড়ছে অস্বস্তি।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী সাত দিনে তাপমাত্রার বিশেষ পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওই সব এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
এ ছাড়া পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম এবং নদিয়ায় কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। সেখানে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিতে ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম এবং বীরভূম জেলায় গরমজনিত সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত তাপপ্রবাহ-সদৃশ পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
উত্তরবঙ্গেও আগামী শনিবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সপ্তাহান্তে দার্জিলিং, কোচবিহার এবং কালিম্পংয়েও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।


