কলকাতা: অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম সকলকেই পূরণ করতে হবে। বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন। কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, কারা পাবেন না, তা ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ ‘বেনোজল’ মিশে রয়েছে। তা বাদ দিয়ে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের বিশুদ্ধ তালিকা তৈরি করা সরকারের লক্ষ্য। এই ফর্মের মাধ্যমে রাজ্যবাসীর পরিবার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও সরকার সংগ্রহ করছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফর্ম পূরণের জন্য তাড়াহুড়ো করার কোনও প্রয়োজন নেই। তিন মাস এই প্রক্রিয়া চলছে। যত দিন অন্নপূর্ণা যোজনা শুরু হচ্ছে, তত দিন ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ চলবে। যাঁরা নতুন প্রকল্পের অধীনে ঢুকে যাবেন, তাঁদের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ বন্ধ হয়ে যাবে। ২ জুনের মধ্যে যাঁরা এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করিয়ে নিতে পারবেন, তাঁরা জুন মাস থেকেই টাকা পাবেন।
শুভেন্দু জানিয়েছেন, প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক এবং আর্থিক ভাবে দুর্বল মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার সঙ্গে যুক্ত হবেন। যাঁরা আয়কর দেন, যাঁরা সরকারি চাকরি করেন, নিয়মিত যাঁরা বেতন পান বা পেনশন পান, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না। তা ছাড়া বাকি সকলকেই এই টাকা দেওয়া হবে। প্রতি সপ্তাহে কত জনের নাম অন্নপূর্ণা যোজনায় নথিভুক্ত হল, তা সাংবাদিক বৈঠক করে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়ে দেবেন। ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে।
শুভেন্দু বলেন, ‘‘এক দিনে সকলকে ফর্ম পূরণ করতে হবে, লাইনে দাঁড়াতে হবে, হুড়োহুড়ি করতে হবে, সব কাজ ফেলে আজকেই না করলে বঞ্চিত হবেন—এমন নয়। এটি একটি স্থায়ী সুবিধা সরকার দিচ্ছে আপনাদের, তার নিজস্ব কোষাগারের অর্থে। তাই আপনাদের সহযোগিতা এবং ধৈর্য প্রয়োজন। পুরো প্রক্রিয়ায় এই ব্যবস্থার সঙ্গে আপনারা থাকবেন। আমরা আপাতত ১ জুন থেকে ৯০ দিন এই প্রক্রিয়াটি চালাব।’’
অনলাইন এবং অফলাইনে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ করা যাবে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, যাঁরা অনলাইন বা অফলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, সরকারি আধিকারিকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করবেন। এ ছাড়া, নবনির্বাচিত বিধায়কেরাও এই কাজে সহযোগিতা করবেন। এটা তাঁদের অন্যতম বড় কাজ হতে চলেছে। আগামী ১৫, ১৬, ১৭ তারিখ জনকল্যাণ শিবির আয়োজিত হবে। সেখানেও ফর্ম পূরণ করার বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।
অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে কিছু বিশদ তথ্য চাওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে নাগরিকদের পরিবার সংক্রান্ত তথ্যও সরকার সংগ্রহ করতে চায়। যাতে পরবর্তী সময়ে সরকারি অন্যান্য প্রকল্পে এই তথ্য ব্যবহার করা যায়। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘এই কাজের পরিধি ব্যাপক। মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবের নেতৃত্বে আধিকারিকেরা এর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। যাঁরা আধারের কাজ করেন, ভোটার তালিকা তৈরির কাজে যাঁরা যুক্ত, তাঁরাও এই কাজ করবেন।’’ রাজ্য সরকারের মহিলা এবং শিশুকল্যাণ দফতরের মাধ্যমে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ন্ত্রিত হবে।
‘লক্ষ্ণীর ভান্ডার’ প্রকল্পে অনেক ‘বেনোজল’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের প্রাথমিক ধারণা ছিল যে, লক্ষ্মীর ভান্ডার-এর প্রাপকদের তালিকাটি যাচাই করা আছে। কিন্তু সে বিষয়ে আমরা ভূরি ভূরি অভিযোগ পেয়েছি। ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ী ভাবে নাম বাদ গিয়েছে এবং ট্রাইবুনালে আবেদন করেননি, এমন প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ লক্ষ্মীর ভান্ডার-এর টাকা পাচ্ছেন।’’ তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার প্রয়োজনেই সকলকে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ করতে বলেছেন শুভেন্দু। সিএএ-তে যাঁরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এসআইআর-এ যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে কিন্তু ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁদেরও আপাতত ব্যতিক্রম হিসাবে তালিকায় রাখা হচ্ছে।


